মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

টাঙ্গাইল মধুপুরের জলছত্র খ্রীষ্টদেহ ধর্মপল্লীতে বিবাহ বার্ষিকী জুবিলী এবং বিশপ পনেন পল কুবি’র জন্মদিন পালিত।

টাঙ্গাইল মধুপুরের জলছত্র খ্রীষ্টদেহ ধর্মপল্লীতে বিবাহ বার্ষিকী জুবিলী এবং বিশপ পনেন পল কুবি’র জন্মদিন পালিত।
---ফিডেলডিসাংমা---
আজ ২৮ জুন’১৫ রোজ রবিবার দিনব্যাপী টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বনাঞ্চলের জলছত্র খ্রীষ্টদেহ ধর্মপল্লীতে খ্রীষ্টান দম্পতিদের নিয়ে ১৫, ২০ এবং ২৫ বছরের বিবাহ বার্ষিকী জুবিলী উৎসব এবং বিশপ পনেন পল কুবি’র জন্মদিন পালন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে ১৩৬ দম্পতি উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও বর্ষাকালীন আবহাওয়া এবং দূরত্বের কারণে মাত্র ৪১ জোড়া দম্পতি উপস্থিত হতে পেরেছিলেন। এছাড়াও প্রায় হাজার খানেক খ্রীষ্টভক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ মহাড়ম্বর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং উক্ত দম্পতিদের বিবাহের পুনঃশপথবাক্য পাঠ করান ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশের বিশপ পল পনেন কুবি, সি.এস.সি প্রমুখ। জলছত্র খ্রীষ্ট দেহ ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার এপোলো রোজারিও সি.এস.সি-র সভাপতিত্বে আরও অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফাঃ আলেক্স রাবানল সি.এস.সি এবং ফাঃ তরুণ বনোয়ারী, সি.এস.সি। অনুষ্ঠানের শুরুতে পুষ্পাঞ্জলি, দীপশিখা অর্পনের মধ্য দিয়ে উপস্থিত সকল দম্পতি এবং প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং উপস্থিত খ্রীষ্টভক্তদের বরণ করে নেওয়া হয়।
বিশপ পল পনেন কুবি, সি.এস.সি দম্পতিদের উদ্দেশে বলেন, পারিবারিক জীবন সুখের, আনন্দের, আগামীর সুন্দর স্বপ্নের। তবে, সংসার জীবনে পারষ্পারিক মতৈক্য, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, বিশ্বাস থাকতে হয়। তাই যে কোন বাঁধায় ধৈর্য, সাহস রাখতে হয়, দুজনে মিলে আত্মবিশ্বাস, সঙ্কল্প থাকতে হয় এবং প্রার্থনা করতে হয়। তখনই সংসারে নামক পৃথিবীতে ভোরের আলো ফুটবে।
ফাঃ আলেক্স রাবানল সি.এস.সি বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে যে সেতুবন্ধন গড়ে উঠেছে, তা সন্তান জন্মদান এবং তাদের খ্রিষ্টীয় আদর্শে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে পরিবার নামক যৌথ সংগঠনের উদ্দেশ্য সাফল্যমণ্ডিত হয়। চলার পথে পারিপার্শিক বাঁধা- প্রলোভন, সমালোচনা, হুমকী, অযাচিত প্রশ্ন ইত্যাদি থাকা খুবই স্বাভাবিক। শয়তান আমাদের পাপে ফেলবার জন্য দুঃখ কষ্ট পাবার জন্য কুমন্ত্রণা দিতে থাকে। তাই সমূহ বিপদ বা বাঁধা জয় করতে দুজনকেই প্রস্তুত, স্থির থাকতে হয়; আর এ বিজয় আসে ঈশ্বরের কাছথেকে।
সম্বর্ধিত দম্পতিদের মধ্যে মিসেস স্বপ্না চিসিম এবং ইউজিন নকরেক তাঁদের বৈবাহিক জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দের কথা ব্যাক্ত করার মাধ্যমে উপস্থিত দর্শক সকলকে আনন্দ দেন। বক্তাদ্বয় উপস্থিত দম্পতিদের পক্ষে সবার উদ্দেশে বলেন, আমরাও সবার মতোই সুখে-দুঃখকে নিয়েই সংসার জীবনে এতগুলো বছর পার করে এসেছি। আজকে আমরা যারা পুনরায় শপথ নিয়েছি, আমাদের বাকী জীবন যেন আরও ভালোভাবে চলতে পারি। তাই আপনাদের সবার কাছে সংসার আশীর্বাদ এবং প্রার্থনা চাই।
ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার এপোলো রোজারিও সি.এস.সি তাঁর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে বলেন, আজ মোট ১৩৬টি দম্পতিদের জন্য বিশেষ একটা দিন। মহান ঈশ্বরের পরিকল্পনা এবং আশীর্বাদ ছাড়া ১৫, ২০ এবং ২৫ বছরের জুবিলী পালন করা সম্ভব হতো না। আজ তাঁদের ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেবার দিন, সেসাথে আমরা যারা আছি, আমাদেরও আনন্দের দিন। আপনারা দীর্ঘ এ সংসার জীবনে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন, প্রত্যেকটি পরিবারে কোন না কোন সময় ছোট বড় বিভিন্ন সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়েছে। সে সময় আমাদের মন দূর্বল হতে পারে, হতাশা, অভাব আসতে পারে। আত্মিকভাবে পাপের ইচ্ছা, বাসনা আসতে পারে; তথাপি অনাকাঙ্খিত এ বাঁধাসমূহকে দুজনের জয় করার ইচ্ছাশক্তি দিয়ে, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পরিবারকে পরিচালিত করতে হবে। আমরা চাই, প্রত্যেকটি পরিবার হোক, সারা বিশ্বের মাঝে একেকটি আদর্শ পরিবার।
অনুষ্ঠান শেষে সম্বর্ধিত সকল দম্পতিকে একটি করে রোজারি মালা এবং একটি করে পারিবারিক প্রার্থনার চমৎকার কার্ড প্রদান এবং উপস্থিত সকল খ্রিষ্টভক্তদের জন্য মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০১৫

বিব্রত ফিডেল

#বিব্রত_ফিডেল#
০২ জুলাই'১৫
.
বিব্রত ফিডেলের বয়ান, "আমি মানুষ নই,
পূর্ণ বয়স্ক চু দিক্‌খা" হয়ে-
কতকাল চলে গেছে স্বল্পায়ু জীবনের, অথচ-
অসমাপ্ত অথৈ কর্ম নির্ঘাত পড়ে আছে অবলীলায়।

ভীষণ বিব্রত আমি,
 বাড়িওয়ালার নির্দেশ পালন করতে, আমাকে-
কেউ বয়ে নিয়ে চলেছে কোন চূড়ান্ত উৎসবে।

সভা-সম্মুখে; যেখানে কোন প্রকার গোপনীয়তা নেই,
পক্ষপাতিত্বহীণ। সেখানেই উন্মুক্ত হবো আমি,
তারপর আমার ভেতরের চু-বিচ্চি নিংড়ে নিয়ে
চেটেপুটে পরীক্ষা করা হবে জমে থাকা আমার গুণাগুণ।

আমি ভাবছি, নাকি কাঁপছি-
অগণিত সারি সারি অপরিচিত নয়ামুখগুলো;
সহোৎসাহে প্রতীক্ষারত আমার মান বিচারে; রায় প্রদানে।

তারপর, তাঁদের চূড়ান্ত রায়ের পর আমার অবস্থান,
কোথায় থাকবো আমার ভেতরের আমি?

{ভবপারের কাণ্ডারি গো, আমারে পার করো}
--- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- ---
(চু দিক্‌খা - মদের হাঁড়ি; চু-বিচ্চি - নির্যাস)

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০১৫

দৃষ্টিপাতঃ৮ নীতিমালাগুলো কি শুধু অপেক্ষাকৃত দূর্বল ব্যাক্তি এবং সংখ্যালঘুদের জন্য?


দৃষ্টিপাতঃ৮ "কতা কয়লে কতা বাজে, হাল বায়লে গ্যাঁড়া বাজে"; নীতিমালাগুলো কি শুধু অপেক্ষাকৃত দূর্বল ব্যাক্তি এবং সংখ্যালঘুদের জন্য?

মাঝে মাঝে কোন কোন মানুষের মুখে নীতিকথা শুনলে লোকটাকে মহান, নীতিবান বলে মনে হয়। দেশে, পৃথিবীতে কিছু নীতিবান লোকতো আছেই, তবে বাদবাকী এসব গিরিগিটী স্বভাবের চরিত্রটা উন্মোচিত হয়- যখন দেখি, সেই নীতিকথা তাঁর নিজের জন্য নয়, শুধু পরের জন্য; অপেক্ষাকৃত দূর্বল ব্যাক্তি এবং সংখ্যালঘুদের জন্য। নিজেদের প্রভাব, আধিপত্য প্রদর্শণের জন্য সেসব স্বঘোষিত নেতা, ব্যাক্তিবর্গ সেসব জ্ঞান, নীতিবাক্য চাওয়াতে তাঁদের উপরে চাপিয়ে দিতে চান ছলেবলে কলেকৌশলে। খুব বেশিদিন মুখোশ পড়ে থাকতে পারেন না। তথাপি, সেসব জানার পরেও বলা যায় না, বলতে গেলেই দোষ, তখন আরেক কাহিনীর জন্ম নেয়। মোদ্দাকথা, উনারা বুঝেও না বুঝার ভান করেন- "হাতের পাঁচটা আংগুল সমান না"- এটা জানবেন, কিন্তু "সবাই পাঁচটা আঙ্গুল দিয়ে ভাত খায়"- এটা জানবেন না, তাতো হয় না।

আগে একটা টাঙ্গাইলা প্রবাদ বলি। তা হলো- "কতা কয়লে কতা বাজে, হাল বায়লে গ্যাঁড়া বাজে"। এ প্রবাদ বাক্যের প্রতিটা শব্দের অর্থগুলো জানলে পুরো বাক্যের অর্থটা খুবই সোজা। কিন্তু প্রবাদের সূচনা কেন করছি, তা আর কেউ না জানুক, যাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আশা করি তারা নিশ্চয়ই বুঝবেন। একই পরিবারের লোক যেমন সমমনা না হলে সে সংসার টিকে না, তেমনই ভাতৃত্ববোধ না থাকলে, সমমনা না হলে দেশে ও সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা যায় না। তাই, সেসব মুখোশধারী নীতিবান লোকদের কাছে ভ্রাতৃত্ববোধের ব্যাখ্যা ও উপায় জানতে চেয়ে আমার এলেখাটি।

সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনার উদাহারণ দিয়ে বলি। কিছুদিন আগে ঢাকায় একটি গারো মেয়েকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, সেখানে জনৈক ব্যাক্তি (বন্ধুও বটে!) একটি দামী মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছেন, “গারো তাতে কি? ...... যারা উপকারের এর নামে ধর্ষণকারী তাদের শাস্তি আমিও চাই।” এযুগে এমন মনোভাব এবং মন্তব্য খুবই হতাশাব্যঞ্জক। আমি মনে করি, এই মন্তব্যে অনেকগুলো মানুষের মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অতীত অভিজ্ঞতাতো তাই বলে। তাই আমি তাঁর কমেন্টের প্রত্যুত্তরে লিখেছিলাম, “"আদিবাসীরা বিশেষ করে গারোরা যেভাবে এবারে আন্দোলন করছে, তাতে বাঙ্গালী মুসলিম ভাইবোনদের কতটুকু সহযোগিতা করছে- তা প্রশ্নসাপেক্ষ। এভাবে পক্ষপাতিত্বতো দেখালেতো দেশের ন্যায়নীতি ঠিক থাকবে না। ক্ষুদ্র, বিচ্ছিন্নভাবে সুশাসন আদায় করা অন্তত এই দেশে সম্ভব না। আজকের ধর্ষিতা একজন আদিবাসী না হয়ে বাঙ্গালী মুসলিম হলে বোধয় স্ট্যাটাসে লাইক কমেন্ট করে কুলানো যেতো না। বিশ্বাস নাহয়, এই ধর্ষণের বিরুদ্ধে বাঙ্গালীদের কয়টা স্ট্যাটাস পাবেন, তা নিউজফিডে স্ট্যাটাস চেক করে দেখতে পারেন”। বাস্তবতা হলো, এই ধর্ষণের বিরুদ্ধে মধুপুর গড়ের গারো এবং দেশের অন্যান্য আদিবাসী সংগঠনগুলো প্রতিবাদে মুখর হলেও বাঙ্গালী কোন সংগঠন এগিয়ে আসে নি। তবে ঢাকার কিছু ছাত্র সংগঠন এবং অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী বাঙ্গালি ভাইবোনেরা ব্যাক্তিগত ভাবে এগিয়ে এসেছেন, আমি ব্যাক্তিগতভাবে তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। সেসব নীতিবান লোক, যাঁদের কাছে আমরা সমবেদনা, সুবিবেচনা, সুবিচারের আশা করি, আজ তাঁদের মৌনতা দেখেছি। তাঁদের বলা নীতিবাক্যগুলোও যেন আমাদের বিবেকের পিত্তাশয়ে তীরের মতো বিঁধে। আমাদের প্রতিবাদতো কোন জাতি বা গোষ্ঠ্যির বিরুদ্ধে ছিলো না, প্রতিবাদ ছিলো ছিলো কতিপর ধর্ষকদের বিরুদ্ধে। তাহলে সেসব নীতিবান লোকদের এই মৌনতার কারণ কি? কেন এ দৈন্যতা?

যাইহোক, এবারকার মতো গারো যুবকেরা এমন অকল্পনীয় কাজটাই করে ফেললো। এই ধর্ষণের বিরুদ্ধে ঐক্য আন্দোলনের মাধ্যমে সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো এই বাংলাদেশের বুকে গারো জাতির লোকেরাও বাস করে। "হাতের পাঁচটা আংগুল সমান না" হলেও "সবাই ঐ পাঁচটা আঙ্গুল দিয়ে ভাত খায়" এই প্রবাদটি প্রমাণ করে ছাড়লো ঐ ধর্ষকদের গ্রেফতার করতে বাধ্য করে। যেখানে সংখ্যাগুরুর বেলায় অনেক ধর্ষকেরাই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়, সেখানে এ আদিবাসীদের বেলায় প্রমাণিত হলো "সবাই পাঁচটা আঙ্গুল দিয়ে ভাত খায়"। সাব্বাশ যুবক ভায়েরা! খা সাংমা, খা মারাক!

"কতা কয়লে কতা বাজে, হাল বায়লে গ্যাঁড়া বাজে"; কিংবা “বেশি কথায় খেতা (কাঁথা) হারায়”- দুটোই টাঙ্গাইলের প্রচলিত এবং বহুল ব্যবহৃত প্রাচীন প্রবাদ; এবং এর অর্থ টাঙ্গাইলারা নয়, আশা করি সবাই বুঝবেন। তাই, আর আজ আর কথা বাড়াতে চাই না। কথা হলো- কারা কি মনে করে, কারা কিভাবে চলে, তা চোখ-কান খোলা রাখলেই, একটু মনযোগ দিয়ে ভাবলেই বুঝা যায়, কয়েকদিনেই সবারই তা বুঝা উচিৎ। শুধু সেসব স্বঘোষিত আদর্শবান ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ করবো- আপনাদের ব্যাক্ত করা মধুমাখা বাক্যগুলো, পরের উপর চাপিয়ে দেওয়া নীতিমালাগুলো শুধু অপেক্ষাকৃত দূর্বল ব্যাক্তি এবং সংখ্যালঘুদের জন্য না বলে নিজের জন্যেও বলুন। আপন চোখের ময়লা আগে পরিষ্কার করুন। জয় হোক মানবতার! জয় হোক সকল মানুষের! 

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৫

দৃষ্টিপাতঃ৪ মানুষ বনসাই, নাকি হাইব্রিড?

দৃষ্টিপাত-৪ঃ মানুষ বনসাই, নাকি হাইব্রিড?
.................
বনসাই গাছ দেখলে আমার বড্ড মায়া লাগে। মনে হয় কি নিদারুণ যন্ত্রণা নিয়ে আত্মরক্ষায় নিরুপায় জীবনকে মেনে নিয়ে অসহায় ভাবে ছোট্ট একটা টবের উপর দাঁড়িয়ে আছে, কোনরকমে বেঁচে আছে। স্বার্থবাদি মানুষ উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে, নিজেদের মনোরঞ্জনের জন্য এ বনসাইদের জোর করে চাপিয়ে রেখেছে। চিরজীবনের জন্য ছোট করে রেখেছে। প্রাকৃতিকভাবে, স্বাভাবিকভাবে এদের বেড়ে ওঠার উপায় নেই; অন্যান্য গাছের মত বড় হওয়ার অধিকার নেই, এরা যেন বঞ্চিত জাতি। বাংলাদেশ সরকার এবং বৃহত্তর নৃগোষ্ঠী (নৃগোষ্ঠী= নৃবিজ্ঞানের ভাষায় মানুষ) যেভাবে চাকমা, মার্মা, গারোদের মত প্রায় ৪৫টি জাতিকে উপজাতি (এখন আবার নৃগোষ্ঠী) করে রাখতে চেয়েছে- বনসাই প্রক্রিয়াকেও আমাকে কাছে ঠিক তেমনই মনে হয়। বনসাই-এর নামে একেকটা জাতের বৃক্ষকে উপজাতিকরণের অপপ্র‍য়াস!

শুনেছি, হাইব্রিডটাও তেমনই; দ্রুত বর্ধনশীল অথচ ক্ষণস্থায়ী, সামান্য ব্যাতিক্রমেই রোগাক্রান্ত বা বিনষ্ট হয়ে যায়। তারপরেও মানুষের দৃষ্টি হাইব্রিডটার দিকে। মানুষ ঝুকেছে স্বল্প মূল্যে বেশি লাভের আশায়। অথচ গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে- হাইব্রিড চিকেন, ফলমূল, শাকসবজি খেয়ে মানুষ তথা প্রাণীকুল শারীরিক ও মানসিকভাবে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জড়িত হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য যে, মানুষ লোভ আর লাভের আশায় LOVE- কে চিতার আগুনে পুড়ে অংগার করে দিয়ে চলেছি। হাইব্রিডটার দিকেও আমাদের দৃষ্টি প্রসারিত।

আগামী ৫০ বছর পর মানুষ কি প্রকৃত মানুষ থাকবে? নাকী মানুষও বনসাই কিংবা হাইব্রিড পরিণত হয়ে যাবে? আমরাতো কেউই ব্যাক্তি, পরিবার, দেশ ও সমাজে অন্যায় অবিচার, দুর্নীতি, হত্যাযজ্ঞ, রক্তারক্তি হোক, তা চাই না। তবে মানুষ কি পারে না মানুষের নেতিবাচক দিকগুলোকে বনসাই রূপ দিতে এবং মনের ইতিবাচক দিকগুলোকে হাই করে তুলতে? হাইব্রিড যদি করতেই হয়, তাহলে আসুন সকলে মিলে আমাদের সুস্থ্য মন মানসিকতাকে হাই করে তুলি। আমরা কতজন প্রস্তুত আছি...?

।।ফিডেলডিসাংমা, ৫ এপ্রিল/১৫।।

দৃষ্টিপাতঃ আমার ধারাপাঠ

দৃষ্টিপাত ১ঃ  আমার ধারাপাঠ
---------------------------
বোধকরি, অদ্যাবধি লাল সবুজের বাংলাদেশ তথা বিশ্ব ভ্রহ্মাণ্ডে পাপ পঙ্কিলতায় পরিপূর্ণ হইয়া উঠে নায়। আমার ধারণা, “এমন একটা দিন আবো, যেদিন বেক্কে মিইল্যা আনন্দমেলার ন্যালা এই দ্যাশের মানুষ এহই থালায় কইরা হাসতে হাসতে মজার সালুন দিয়া বিরিয়ানি-বাত নিজেও খাবো, আর আরেকজুনরেও খিলাবো”- এইরূপ বিশ্বাস-বাসনা পোষণকারী কিছু শান্তিপ্রিয় মানুষ মহাবিশ্বে এখনও বিদ্যমান। যাহারা মানুষের সহিত যাচিয়া মাগিয়া বিবাদ বাঁধাইতে, লাগাইতে যান না, কিংবা সেরূপ মনোবৃত্তি রাখিয়া চলেন না। পারতপক্ষে ইহারা সমূহ গ্যাঞ্জাম এড়াইয়া চলিবার লক্ষ্যে নিরন্তর সকলের সহিত সমহারে সদাচরণ করিবার অকৃত্রিম বাসনা লইয়া, রামধনু পণ করিয়া নিত্য প্রভাতে সৃষ্টিকর্তার নিকটে মিনতি করিয়া আপন কর্মে মনোনিবেশ করিয়া থাকেন। মূলতঃ ইহারা পরচর্চা, পরনিন্দাকে অতিশয় ঘৃণা করিয়া থাকেন।

তথাপি পরিতাপের বিষয় যে, কিছু মানুষের কর্মকাণ্ড দেখিয়া, ইহাদের আচরণ এবং মতবিনিময়-বাদানুবাদ শুনিয়া, বুঝিয়া বোধ হয় ইহারা খুবই গ্যাঞ্জামপ্রিয়। মনে হইবে ইহারা দুয়েকদিন যৎসামান্য গ্যাঞ্জামে জীবন অতিবাহিত করিতে না পারিলে উনাদের দেহ ও মনের বলশক্তির অপপ্রয়োগ ঘটিতেছে কিংবা উদরের অন্ন হজমে ব্যাঘাত ঘটিবেক। এই কারণে ইহারা শান্তিপ্রিয় মানুষদের পেছনে তাড়া করিয়া দিনযাপন সর্বোত্তম মনে করিয়া থাকেন। ফলে ইহারা নিত্য নিত্য আপন পেশীশক্তি প্রদর্শণপূর্বক শান্তিপ্রিয় মানুষের পশ্চাদদেশে বাঁশ দিবার, দূর্বলদের ভাড়াভাতে ভস্ম প্রদান করিবার, সহস্র ভুখা-নাঙ্গা মানুষের লালরক্ত ঝরাইবার মনোবৃত্তি লইয়া উহাদের সৃষ্টিকর্তার নিকটে মিনতি করিতে করিতে রাজপথে বাহির হন। ইহাদের পর্যবেক্ষণে মনে হইবে যেন- " ঐ শালা নিরামিষ, ক্ষ্যাপ, আমার বোগলে আয়। তুই কাইজ্জা করবি না ক্যা, দ্যাখ তুই... এই মারলাম খোঁচা, বাঁশ, লাথি, গুত্তা, গুলি, বোমা" বলিয়া ইহারা সাধ্যানুযায়ী আপন মহিমা প্রকাশ করিয়া থাকেন।

।।ফিডেলডিসাংমা।। তাখিখঃ ১ মার্চ, ২০১৫

দৃষ্টিপাতঃ ২, যত দোষ- নন্দ ঘোষের!

দৃষ্টিপাতঃ ২, যত দোষ- নন্দ ঘোষের!
(প্লিজ, না পড়ে লাইক দিবেন না। মন্তব্য না হলেও চলবে)
~~~~~~~~~~~~~~~
“টাঙ্গাইলের মধুপুরে ২১৮ লিটার মদসহ দুই নারী আটক”- টাঙ্গাইল বার্তা।

উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো খবর বটে। তবে, এ আটককৃত লোকেরা পুনরায় এ মদের ব্যবসায় নামবে না, এর নিশ্চয়তা কোথায়? আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে হয়, এরা এই ব্যবসা ছাড়বে না, ছাড়তে পারবে না। কারণ, এই ব্যবসার পেছনে অনেক ডোনার থাকে; যারা নিজেরাই এসব মদের ভোক্তা। দরিদ্র ঋষি পরিবার বা এলাকার অন্যান্য আদিবাসীরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য মদ কিনে না, কেনার সাধ্যও নাই তাদের। কোন না কোনভাবে এসব দরিদ্র পরীবারকে ফুসলিয়ে, টাকার লোভ দেখিয়ে এদের এব্যবসায় নামতে বাধ্য করা হয়েছে। আর এরাও পেটের দায়ে মদের ব্যবসা চালিয়ে গেছে এবং চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এসব মদের ভোক্তা কারা তাকি প্রশাসন জানে না? এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এব্যবসা চলছে, সেহেতু, প্রশাসনের জানার কথা। কারণ মন্ত্রণালয় এসব দুর্নীতিরোধে করণীয় সমস্ত প্রশিক্ষণ দিয়েই প্রশাসনে রেখেছে। তারপরও যারা ভোক্তা, প্রশাসন তাদের ধরবে না।

এইসব মাদকসেবীর দলের কোন ধর্ম নাই, দ্বিধা নাই। ধর্মীয় পাপ-পূণ্য বা হারাম হালালের ভাবনাও নাই। এরা সব জায়গায়, সব সমাজে বসে মদ খেতেও পারেন । কারণ, এরা এলাকার প্রভাবশালী, অর্থ-সম্পদশালী লোক; বড় বড় রাজনীতি দলের সোনার টুকরা কিংবা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত পরিবারের হবু আদর্শ নেতা। যারা রাষ্ট্রীয় এবং ধর্মীয় আইনের চোখে ধূলো দিয়ে অথবা প্রশাসনের লোকদের সাথে হাত মিলিয়ে এসব করেন এবং কোনোভাবে ফাঁদে পড়লেও যারা একটি দুটি ফোন ওর্ডারের মাধ্যমে ছাড়া পেয়ে যান। আর এসব লোকদেরকেও মহান সাংবাদিকেরাও দেখেন না? এটার উত্তরও হ্যাঁবোধকই হবে। কিন্তু উনাদের এসব কীর্তিকাণ্ডের খবর ছাপানো হয় না, ছাপানো যাবে না, কারণটাও জানা- এসব মানী লোকদের পেছনে লাগতে গেলে সাংবাদিক, রিপোর্টারদের জীবন আর পেশা দুটোই হুমকীর মুখে পড়তে হয়।

মদের ব্যবসা বা মদ পান করা কোনটাই ভালো নয়। ব্যক্তি, সমাজ এবং দেশ ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর। তাই সমাজথেকে ক্ষতিকর বিষয়টি বন্ধ করতে হলে এসবের দরিদ্র ব্যবসায়ীদের ভালো কোন কাজে প্রশিক্ষণদানের মাধ্যমে, ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে পুনর্বাসন করা উচিত। আর কাজের উদ্যোগটি নিতে পারেন সরকার এবং বেসরকারি সাহায্য সংস্থা, সমাজের প্রভাবশালী, অর্থ-সম্পদশালী এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।

পৃথিবীর সকল মানুষের মঙ্গল হোক।
।।ফিডেলডিসাংমা।। ৪মার্চ,২০১৫।।

লতিফ ভায়ের সাথে দেখা হলো না

লতিফ ভায়ের সাথে দেখা হলো না
------------------------------------------
.
চিত্রপটঃ জলছত্র কর্পোস খ্রীস্টি মিশন। আলোকিত মধুপুরের প্রধান পৃষ্ঠপোষক লতিফ ভুইঞা সেখানে এসেছেন। খবরটি শুনেই আমারও আগ্রহ হলো। ভাবলাম, যাই আমিও দেখা করে আসি। তারপর তিনি যদি শোনেন, আমি তার কাছে পিঠে থেকেও দেখা করতে আসলাম না; তাহলে তিনি মাইণ্ড করতে পারেন। এমনিতে গ্রুপের কার্যকরী কমিটির সভাপতি পদথেকে আমার সড়ে আসাতে উনি ব্যাক্তিগতভাবে খুশি নন, ভেতরে ভেতরে মানাভিমান রয়ে গেছে- সেটা আমি জানি। সুতরাং দেখাটা না করলে আমার নিজেরও ভালো লাগবে না। আগেরবার নির্বাচনকালীন সময়ে উনি ২ মাসের জন্য ছুটিতে এলেও আমার সাথে কখনও সাক্ষাৎ হয়নি। সাথে এসেছেন সুন্দর ধবধবে সাদা শাড়ি পরিহিতা মহিলা। দূরথেকে দেখে আমি ভাবলাম, মহিলাটি মিশনের কোন সিস্টার (নান) হতে পারেন; কিন্তু পরে জানলাম, মহিলাটি লতিফ ভায়ের মা।
.
দেখলাম, লতিফ ভাই, উনার মা আর আমার অপরিচিত একজন ফাদার (খ্রিস্টান ধর্মের পুরোহিত)-এর সাথে আলাপ করছেন। মনে হলো, উনাদের আলাপটা শেষ পর্যায়ে। আমি পৌছতেই লতিফ ভাই এবং আমি একসাথে হ্যাণ্ডশেকের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলাম। তখন আমার মাথায় দুষ্টুমি বুদ্ধি চাপলো। আমাকে চিনতে পারেন কিনা ভেবে আমি বললাম- আমি ফিডেল সাংমার ছোট ভাই। কিন্তু আমার মনে হলো না, আমার কথাটা তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। সুতরাং ব্যস্ততার ভান করে মিশন প্রাঙ্গন ঘুরে দেখার নামে অন্যান্য লোকজনদের সাথে সাক্ষাৎ করতে অন্যদিকে চলে গেলেন। এরই মধ্যে রফিক ভুইঞা আমার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। রফিক ভুইঞা আমার পূর্ব পরিচিত এবং খাতির; যা বিশ্বের কোন ভুইঞা বংশের সাথে আগে কখনও ছিলো না। ধরে নিলাম, এই রফিকও লতিফ ভায়ের সফর সঙ্গী। রফিকের সাথে খোশ গল্প করতে করতে জানলাম, লতিফ ভাই এই মিশনের জন্য ৫ লক্ষ টাকা অনুদান দিতে চাইছেন। আমি কিছুক্ষণ ভেবে ভ্রু কুঁচকে রফিককে বললাম, তগর ভুইঞা বংশের টেহা কি বেশি অয়া গেলো গা নাকি? এই মিশনরাতো চাইলের বিদেশী ডলার সাহায্য পায়তে পারে।- আমি কিবায় কমু, যার যেবা ইচ্ছা-- নাকি আবার নির্বাচনী প্রচারণা?- তাইবান-- কিন্তু এডা অয়লে- চিন্তা করসস? হাতে এহনও ৫টা বসর রয়সে, যে কোন (নির্বাচনী) পরিস্থিতি, যে কোন সময় পাল্টায়া যাবার পারে। - তাওতো কতা-- তাইলে এই অনুদান পরের নির্বাচনের আগে দিলেই বেশি বালা অইত নাকি?- হেডা হেই বালা বুজবো নি- যাই অউক, হেরে আবার কবাইন, ফিডেল দাদার বড়বাই অথবা সুডুবাই আইসিলো। দেহি, হে আমারে চিনা হায়কিনা-
.
আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আলাপ করছিলাম, তার কাছাকাছি এলাকার নিম্ন আয়ের লোকজন কাজ করছে। মাঝে মাঝে দুজনই তাদের কাজ করার দিকে তাকাচ্ছি আর আলাপ করছি। আমার একটা খুব খারাপ একটা বদ-অভ্যাস আছে, তা হলো সিগারেট খাওয়া। আমি রফিককে সরাসরি না বলে আমার স্বভাবসুলভ দুষ্টুমি করে বললাম, আমার দুই আঙ্গুলের চিপায় কেন্নিগা জানি খায়জায়তাসে। বুঝলাম, রফিক আমার কথা বুঝতে পারে নি। তাই চোখ দুটো বড় বড় করে আমার দিকে তাকায়। আমি আবার বললাম, যাইন, আমরা কতা কইতে কইতে এইন্দা হাঁটি। কথা না বাড়িয়ে রফিক আমার সাথে হাঁটে।
আলাপ করতে করতে আমরা বড় এবং অনেক উঁচু একটা পানির ট্যাঙ্কের পেছনে চলে এলাম। পরিবেশটা খুব সুন্দর। আশেপাশে ছোট ছোট ফল আর বাহারী ফুলের গাছ। ছোট ছোট রঙিন প্রজাপতি আর পাখিগুলো উড়াউড়ি করছে। শিরশিরে ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে লাগছে টের পাচ্ছি। চারপাশ দেখে মনে হলো, সিগারেট খাওয়ার মতো নিরাপদ স্থান। যদি না লতিফ ভাই লোকজনের সাথে আলাপ শেষ করেন, তাহলে এখন এদিকে কারোর আসার সম্ভাবনা নাই। সুতরাং এবার সিগারেটটা এখানেই খাওয়া যায়। পকেটথেকে সিগারেট বের করে গ্যাসলাইটে চাপ দিতে যাবো, ঠিক সেসময় ঢুম করে বিকট শব্দ শুনে দুজনই চমকে গেলাম। ত্বরিৎ গতিতে ভাবছি, শব্দটা কিসের হতে পারে, কাছেই মজুররা ট্যাংকির উপড়ে চড়ে কাজ করছিলো। ওদেরই কিছু হলো নাতো! আশঙ্কা এবং ভয়ে ঘেমে যাচ্ছি। আমরা আর দাঁড়িয়ে না থেকে যেদিকথেকে শব্দটা এসেছে সেদিকে দৌড়াচ্ছি আর হাঁপাচ্ছি। দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে আমরা দুজনই প্রচণ্ডভাবে ঘামছি। আমাদের পরনের শার্ট ভিজে শরীরের সাথে লেগে চপচপ করছে; তবুও দৌঁড়াচ্ছি। কিছুক্ষণ পরই আবার ততোধিক বিকট শব্দ! ঢুরররুম করে আওয়াজটা হতেই দেখি, আরে এতো ফুলের বাগান নয়, মামুন খানের খরখরে বিছানা।
.
অগত্যা, আমার আফসোস; লতিফ ভায়ের সাথে আর দেখা হলো না। আমি মনে মনে বলি, আরে হালা খোয়াব, তর গুষ্টি কিলাই
  -----------------------
(তারিখঃ ১৫ মে, ২০১৪)